
নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনার তেরখাদা উপজেলার সাচিয়াদাহ বাজারে নির্মাণাধীন সেতুর সংযোগ সড়ক সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে একাধিক দোকানঘর, কয়েক দশকের পুরোনো গোডাউন এবং একটি সামাজিক সংগঠনের ভবনের অংশ ভেঙে ফেলার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বুলডোজার দিয়ে এসব স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকাজুড়ে ক্ষোভ, উদ্বেগ ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাচিয়াদাহ-চুনখোলা সংযোগ সেতুর নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে হঠাৎ করে বাজার এলাকায় বুলডোজার দিয়ে কয়েকটি স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, উচ্ছেদের আগে তাদের কোনো লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়নি, এমনকি প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়নি।ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বিএম রকিব উদ্দিন বলেন, তাদের পরিবার দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এসব স্থাপনা ব্যবহার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। উন্নয়ন প্রকল্পের স্বার্থে জমি অধিগ্রহণ বা উচ্ছেদের প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে। কিন্তু প্রশাসনের উপস্থিতি বা কোনো বৈধ প্রক্রিয়া ছাড়াই স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এর পেছনে ব্যক্তি ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।আরেক ভুক্তভোগী বিএম সমির উদ্দিন জানান, তার বাবার প্রতিষ্ঠিত প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ বছরের পুরোনো একটি পাটের গোডাউন ওই স্থানে ছিল। বর্তমানে তিনি ও তার ভাই সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। রাস্তা সম্প্রসারণের অজুহাতে পরিকল্পিতভাবে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।একই অভিযোগ তুলেছে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন সুজা মৈত্রী যুব সংঘ। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ জানান, তাদের দেড়তলা ভবনের সামনের অংশও বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। অথচ এ বিষয়ে আগে কোনো আলোচনা, নোটিশ বা প্রশাসনিক যোগাযোগ করা হয়নি।ভুক্তভোগীদের দাবি, ঘটনার কয়েকদিন আগে উপজেলা সদরের কয়েকজন ব্যক্তি বাজারে এসে দোকানঘর সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ ও হুমকি দিয়েছিলেন। পরে বুলডোজার এনে সেই হুমকির বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।ঘটনার খবর পেয়ে তেরখাদা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তেরখাদা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাসানুজ্জামান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।এদিকে তেরখাদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা সুলতানা নীলা বলেন, এটি বাগেরহাট সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতাধীন একটি প্রকল্প। কোনো স্থাপনা উচ্ছেদের প্রয়োজন হলে সাধারণত প্রশাসনের মাধ্যমে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় তা সম্পন্ন করা হয়। তবে এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে কেউ অবহিত করেনি। বিষয়টি জেলা সমন্বয় সভায় উত্থাপন করা হবে বলেও তিনি জানান।ঘটনার পর সাচিয়াদাহ বাজারজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—যদি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত না করা হয়ে থাকে, তবে কার নির্দেশে এবং কোন কর্তৃত্বে বাজারের দোকানঘর, কয়েক দশকের পুরোনো গোডাউন ও একটি সামাজিক সংগঠনের ভবনের অংশে বুলডোজার চালানো হলো?স্থানীয়দের ভাষ্য, উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কারও আপত্তি নেই। তবে উন্নয়নের নামে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার আগে আইনি প্রক্রিয়া, যথাযথ নোটিশ এবং ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় উন্নয়ন প্রকল্পের প্রতি জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার, ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী।
